স্বাধীন ভারতে এই প্রথম নজিরবিহীন বিদ্রোহ সুপ্রিম কোর্টের চার শীর্ষ বিচারপতির

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্বাধীন ভারতে এই প্রথম। নজিরবিহীন বিদ্রোহ সুপ্রিম কোর্টের চার শীর্ষ বিচারপতির। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগে চাপে মোদি সরকারও। স্বাধীনতার পর থেকে গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতের সবথেকে বড় শক্তি ছিল বিচারবিভাগ ও সামরিক বাহিনীর পক্ষপাতহীন শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব। ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র আখ্যা দেওয়ার অন্যতম কারণও এটাই।

এবার সেই ভাবমূর্তিকে চরম ধাক্কা দিয়ে খোদ গণতন্ত্রই বিপন্ন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন গোটা বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই। তাঁদের নিশানায় স্বয়ং প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র।। ওই চার বিচারপতির মধ্যে রয়েছেন রঞ্জন গগৈ। যিনি আগামীদিনে প্রধান বিচারপতি হওয়ার দৌঁড়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন। বাকি তিন বিচারপতি হলেন জে চেলামেশ্বর, মদন লোকুর এবং কুরিয়েন জোসেফ। এই চারজনই সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র বিচারপতি। বিচারপতি চেলামেশ্বর প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের ঠিক পরেই দ্বিতীয় সর্বাোচ্চ পদাধিকারী।

চার বিদ্রোহী বিচারপতির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে চলছে তাতে ভারতে এরপর আর গণতন্ত্র জীবিত থাকবে না। কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে, কোনও একটি বেঞ্চ থেকে কোনও মামলা আচমকা বিনা নোটিশে সরিয়ে নেওয়া, বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিশেষ স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে কোনও বিশেষ মামলার বিচারপ্রক্রিয়াকে পছন্দসই বিচারপতির এজলাসে পাঠানোর মতো চরম অগণতান্ত্রিক কাজকর্ম হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। দু’মাস আগে চার বিচারপতি প্রধান বিচারপতিকে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যা নিয়ে একটি চিঠিও লিখেছিলেন মীমাংসা চেয়ে। তাঁদের বক্তব্য কোনও লাভ হয়নি তাতে। সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এরকম সম্মিলিতভাবে অন্য বিচারপতিদের মুখ খোলার ঘটনা ভারতের ইতিহাসেই নজিরবিহীন।

শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিজেরাই বলছেন, বিশেষ বিশেষ মামলার শুনানি ও বায়দানের পিছনে পক্ষপাতমূলক অভিসন্ধি আছে, এই বার্তাটি ভারতের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এক মারাত্মক আঘাত। সুপ্রিম কোর্টের ৩১ জন বিচারপতি রীতিমতো বিভাজিত হয়ে গিয়েছেন।

জানা যাচ্ছে, সিংহভাগ বিচারপতি এই বিদ্রোহীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অন্দরে একঝাঁক বিচারপতি বনাম প্রধান বিচারপতির মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। আঁচ থেকে বাঁচতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকারও। কারণ আজ দুপুরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইট করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অতি হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।

বিচারবিভাগীয় দুর্নীতির অভিযোগ ও সন্দেহ নতুন নয়। সেটি আটকাতে বিলও পেশ করা হয়েছে সংসদে। কিন্তু এই প্রথম স্বয়ং বিচারপতিদের দ্বারাই সুপ্রিম কোর্টের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছে অনিয়ম আর নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি বিশ্বাসে যা এক বিরাট ধাক্কা। তবে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে একজন বিচারপতির একটি মুখনিঃসৃত শব্দ। শব্দটি হল, ইয়েস! সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল ২০১৪ সালে গুজরাতে সোহরাবুদ্দিন এনকাউন্টার মামলা (যেখানে অভিযুক্ত ছিলেন অমিত শাহ, তিনি অভিযোগ থেকে পরে মুক্ত হয়েছেন) যাঁর এজলাসে চলছিল, সেই বিচারপতি লোয়ার রহস্যময় মৃত্যু ও তৎসম্পর্কিত মামলার গতিপ্রকৃতিও কি অনিয়মের তালিকায় আছে? বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, ইয়েস! কিন্তু ওই একটি ‘ইয়েস’ শব্দই হাজার জল্পনার মুখ খুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − 8 =