স্মার্ট পদ্ধতির আনস্মার্ট আচরণ :একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল কবে?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
২৭ জুন রাত ১টা ২৫ মিনিটে ওয়েবসাইটের চিত্র
২৭ জুন রাত ১টা ২৫ মিনিটে ওয়েবসাইটের চিত্র

কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীতদের প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশের সময় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে আরো নয় ঘণ্টা পিছিয়েছে। মোট পাঁচ দফা পিছালো এই তালিকা প্রকাশের সময়। এ পরিস্থিতিতে বিপন্ন এবং উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রশ্ন বুয়েটের কারিগরী সুবিধার সহায়তা নিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্যে স্মার্ট ভর্তি পদ্ধতির কথা বলে এ কেমন আনস্মার্ট আচরণ করছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়? এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চাপের মুখে আছে। শুক্রবার সকালে মেধা তালিকা প্রকাশিত হবার আশায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুক্রবারের বন্ধের দিনেও প্রশাসনিক কার্যালয় খোলা রেখেছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অনুরোধে। বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা পবিত্র রমজান এবং ছুটি উপেক্ষা করে শুক্রবার দিনের বেলায় অনেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক বিভিন্ন কলেজে ভীড় করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এমন বিশাল অংকের বিনিয়োগের অপচয়ে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকেরাও। ২০১৫ সালে সারা দেশের ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন উত্তীর্ণ  শিক্ষার্থী অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষাটিতে উৎরে গেলেও এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের ভবিষ্যৎ কে বারবার নতুন নতুন নিয়মে বেঁধে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছেন দেশের শিক্ষা বিভাগের নীতিনির্ধারকেরা।

সর্বশেষ  শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা সময়সীমা শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে  শুক্রবার সকালে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ফল একীভূত করার কাজ শেষ না করতে পারার কথা জানিয়ে একদিন পিছিয়ে শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মেধা তালিকার প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঢাকা বোর্ড। ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আসফাকুস সালেহীন বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

৩০ মে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফলে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন উত্তীর্ণ হন, যারা এখন এই ভর্তি ফলের অপেক্ষায় আছেন। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পাস করা ছাত্র-ছাত্রীরাও এবার একাদশে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

কলেজ পরিদর্শক জানান, সারা দেশের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে তাদের ফল জানতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে।   মনোনীতদের তালিকা প্রকাশের জন্য করা ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার রাতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফলাফল ২৫ জুন ২০১৫ এর পরিবর্তে ২৬ জুন ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হবে৷  ওই ফল প্রকাশের কথা থাকায় অনেকেই রাত জেগে অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু ওয়েবসাইটে ফল না দেখতে পেয়ে সংবাদপত্র কার্যালয়ে ফোন করেন।

আসফাকুস সালেহীন তখন  বলেন, “ওয়েবসাইটে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ফল একীভূত করতে বিলম্ব হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি এতে কাজ করছে।”

ওয়েবসাইট হ্যাকড হওয়ায় ফল প্রকাশ বিলম্বিত হয়েছে বলে  স্ক্রিন শট এবং কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর এলেও তিনি তা অস্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা, রাত সাড়ে ১১টা শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা , শনিবার সকাল সাড়ে আটটা …. এভাবে বারবার সময় বদলে পরীক্ষার্থী এবং তাদের স্বজনদের চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে শেষ পর্যন্ত কবে এই ফলাফল প্রকাশিত হবে , তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এবার কলেজে ভর্তি হতে গত ৬ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের শিক্ষা বোর্ড গুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি হতে পারবেন। কলেজগুলোতে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ২ জুলাই দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর আগে যেসব শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেননি, তারা ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন। নতুন করে আবেদনকারীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১২ জুলাই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + one =