‘হা হা হা মওদুদ সাহেব, ‘৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই -ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়’- শাওন মাহমুদ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১০০ টাকায় দলিল করে  ৩০০ কোটি টাকার বাড়ি ৩০ বছর ধরে অবৈধ দখলে রাখার পর হাতছাড়া হয়ে যাওয়াতে চরম ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও রাজউক বিনা নোটিশে তাকে উচ্ছেদ করে বেআইনি কাজ করেছে। এর প্রতিবাদে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন।  ১৯৮২ সালে  একুশের অমর গানের সুরকার শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের  লংপ্লে রেকর্ড সহ প্রতিটি আসবাব রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে শহীদ পরিবারকে উচ্ছেদ করেছিলো ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমেদ। আজ তার এ পরিস্থিতিতে জবাব দিলেন শহীদ আলতাফ কন্যা শাওন মাহমুদ।
বঙ্গবন্ধুর দেয়া বাড়ি থেকে ১৯৮২ সালে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। আর সেটাও করা হয় এক দিনের নোটিশে।
গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বরের যে বাড়িতে মওদুদ তিন দশক ধরে থাকছেন, সেটি তিনি অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। গত ৪ জুন আপিল বিভাগ এই রায় দেয়ার পর বুধবার সেই বাড়ি থেকে মওদুদকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মওদুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন তাকে নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হল।

বৃহস্পতিবার শাওন মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পেজে ইতিহাসের সেই করুণ অধ্যায় তুলে  জবাব দেন মওদুদকে।

বাড়ির সামনে দাঁড়ানো মওদুদের ছবিটির কথা উল্লেখ করে শাওন মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘অনেক শরীর খারাপেও এই ছবিটা আমাকে সকাল সকাল সোজা করে দাঁড়িয়ে দিলো। দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবারদের বেশ কিছু বাড়ি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যে আমাদের বাড়িটি ছিল ১ নং মালিবাগ।’
‘৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদিনের নোটিশে সে বাড়িটি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে স্যুটকেসের ওপর মা বসিয়ে রেখেছিলেন আমায়। বসে বসে পুলিশের তাণ্ডব দেখেছিলাম সেদিন। দোতলা থেকে বাবার ব্যাগ ফেলছিল ওরা। এলপি রেকর্ডগুলো চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলছিল বারান্দা থেকে। নীচের তলার সংগীত স্কুলের হারমোনিয়াম তবলা তানপুরা উঠোনের এখান ওখানে ছুড়ে ছুড়ে ফেলছিল ওরা। আমি জানতাম না রাতে কোথায় থাকব সেদিন’।

একুশের মহান শহীদদের স্মরণে রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্র্র্রুয়ারী , আমি কি ভুলিতে পারি? ” গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা লিখলেন, ‘সেই উচ্ছেদ প্রকল্পের প্রধান উদোক্তা মউদুদকে স্যুট পরে মাধবীলতা গাছের নীচে দাঁড়িয়ে তার উচ্ছেদ হওয়া বাসার সামনে বলতে শুনলাম যে, তিনি (মওদুদ) ফুটপাতে থাকবেন। হা হা হা,  মওদুদ সাহেব ‘৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই-  ভুলবো না। ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়। ওহ্ আরেকটা কথা, সেদিন আমরা যদিও জানতাম না কোথায় থাকবো তারপরও ফুটপাতে থাকবার কথা ভাবিনি। প্রতিবেশীর খালি বাসাটা তাৎক্ষণিক ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলাম আমরা।’

শেষ লাইনে শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা  শাওন মাহমুদ লিখেন, ‘আমি একশো বছর বাঁচবো। হিসাব নিয়ে তারপর যাব ’।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − thirteen =