হিন্দি ফিল্মের চার দশকের কিংবদন্তি সুরকার খৈয়াম চলে গেলেন ৯২ বছর বয়সে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বরফের রাজ্যে আবেশে জড়িয়ে যুগল। অমিতাভের কোলে মাথা রেখে রাখী। অমিতাভের ঠোঁটে তখন, ‘কভি কভি মেরে দিল মে খায়াল আতা হ্যায়… ’। যশ চোপড়ার রোম্যান্টিক ফিল্ম ‘কভি কভি’-তে সাহির লুধিয়ানভির ওই কথাগুলিকে সুরের ছায়ায় চিরকালীন করেছেন কিংবদন্তি সুরকার মহম্মদ জহুর হাশমি খৈয়াম। ‘উমরাও জান’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার সুযোগই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। সোমবার রাতে প্রয়াত হলেন এই কিংবদন্তি সুরকার মহম্মদ জহুর হাশমি খৈয়াম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

(১৯৫৩-১৯৯০) চার দশকে শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন ভারতের জাতীয় পুরস্কার, সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি এবং পদ্মভূষণ সম্মান।

অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবে ১৯২৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম  নেন মহম্মদ জহুর হাশমি খৈয়াম। ছোটবেলা থেকেই হিন্দি ফিল্মের গানের প্রতি তাঁর টান ছিল।গান শিখতে এক বার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে চলে যান দিল্লি, কাকার বাড়িতে।তাঁর তখন সুপ্ত ইচ্ছে ছিল, অভিনেতা হবেন। তবে শেষমেশ সে সব ছেড়ে এক সময় ফিরে যান নিজের বাড়িতে। তখন থেকেই জোরকদমে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম শুরু করেন। প্রথমে পণ্ডিত অমর নাথ এবং পরে বাবা চিস্তির কাছে সঙ্গীতের হাতেখড়ি। সেই বাবা চিস্তির সরকারি হিসাবেই ফিল্মে সঙ্গীত পরিচালনা কাজে মন দেন।

রেখা, রাজ বব্বর, নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ’উমরাও জান’ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনার জন্য খৈয়াম জাতীয় পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-সহ বহু পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছিলেন। আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত বিভাগে ১৯৭৭ সালে কাভি কাভি চলচ্চিত্র, ১৯৮২ সালে উমরাও জান চলচ্চিত্র এবং ২০১০ সালের আজীবন সম্মানাসহ মোট তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেন। তিনি ২০০৭ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমী কর্তৃক সৃজনশীল সঙ্গীতে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত একাডেমী কর্তৃক নাচ এবং থিয়েটারে অবদান রাখার সুবাদে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। তিনি ২০১১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানজনক পুরস্কার ’পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন।

১৯৬১-তে রমেশ সহগলের ফিল্ম ‘শোলা অউর শবনম’-এর গানে সুর দিয়ে নজর কাড়েন মহম্মদ জহুর হাশমি খৈয়াম। সেই শুরু! এর পর ‘ত্রিশূল’, ‘বাজার’, ‘উমরাও জান’, ‘নুরি’, ‘রাজিয়া সুলতান’— একের পর এক ফিল্মে দর্শককে বেঁধেছিলেন তাঁর সুরের জালে।  খৈয়ামের মৃত্যুতে হিন্দি ফিল্মের জগতে আজ বিষণ্ণতার সুর!

পাঁচ থেকে শুরু করে নয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত— প্রায় চার দশক ধরে হিন্দি ফিল্মের পর্দায় গজলকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ জহুর হাশমি খৈয়াম। হিন্দি ফিল্মের উৎসাহীরা যাঁকে চেনেন খৈয়াম নামে। তাঁর সঙ্গে ছিল, কাইফি আজমি বা জান নিসার আখতারের মতো কবির লেখনী। তবে শুধু গজল নয়, সুরের সৃষ্টিতে খৈয়াম অমর করেছেন বহু সাধারণ মানের লেখনীও।

গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে মুম্বইয়ের জুহুতে এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন খৈয়াম। সে সময় থেকেই আইসিইউ-তে ছিলেন তিনি। তাঁর দেখাশোনা করছিলেন গজল গায়ক তালাত আজিজ। সঙ্গে ছিলেন খৈয়ামের স্ত্রী জগজিৎ কউরও। তালাত আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জগজিৎ কউর কে নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ তিনি ও বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তালাত আজিজ জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মারা যান খৈয়াম। হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল খৈয়ামকে। তালাত আজিজ জানিয়েছেন, আগামিকাল মুম্বইয়ে খৈয়ামের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার এবং উইকিপিডিয়া

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − seven =