১২ বছরের কমবয়সী শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড, সম্মতি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১২ বছরের কম বয়সী শিশুকন্যা ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ভারতে দেশজোড়া সাঁড়াশি চাপে শেষপর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে সায় দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফে স্পষ্ট প্রস্তাবনায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিশুধর্ষণের শাস্তি সাপেক্ষে যে আইনাবলী রয়েছে তার সঙ্গেই যুক্ত হবে এই নয়া প্রস্তাবনা। কাঠুয়ায় নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। সেই সঙ্গে উন্নাও ধর্ষণে জড়িত বিজেপি বিধায়ক, কেন্দ্রের সরকারকে প্রায় জোড়া ফলায় বিদ্ধ করে ফেলেছিল।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ।  ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধকে চোখ ঢেকে এড়িয়ে গেলে জনসমর্থনের ঝুলিও খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা বিজেপির আকাশে আনতে পারে কালো মেঘের ছায়া। তাই শিশুকন্যা ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডতেই সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

ভারতের পরিসংখ্যান রিপোর্ট বলছে, ২০১৬-তে ১৮ বছরের কমবয়সী ধর্ষণের ঘটনা ৪৩.২ শতাংশ। ২০১৫-র থেকে ১৬-তে এহেন ধর্ষণ বেড়েছে ৩২.৮ শতাংশ।

উপত্যকার বাখরেওয়াল সম্প্রদায়ের নাবালিকা কন্যা আসিফা। তাকে মন্দিরে আটকে রেখে আটজন গণধর্ষণ করল এক সপ্তাহ ধরে। তারপর নির্যাতিতার মাথা থেঁতলে খুন করল ধর্ষকরা। তার আগেই প্রচারের আলোতে আসে যোগীর রাজ্যের কিশোরী ধর্ষণ। উন্নাওয়ের ওই কিশোরীকে দলবল নিয়ে ধর্ষণ করে এলাকার বিজেপি বিধায়ক। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও প্রতিকার পায়নি নির্যাতিতার পরিবার। উলটে মিলেছে হুমকি। তবুও হাল ছাড়েনি নির্যাতিতার পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে গোটা পরিবার। তারপরেই প্রকাশ্যে আসে এই নারকীয় ঘটনা।

কিন্তু যারা ধর্ষণের মতো বড় অপরাধ করেও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তারা এত সহজে মুখ লুকোয় না। নির্যাতিতার এত বড় সাহস মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে চলে গিয়েছে। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই খুন হয়ে যান নির্যাতিতা কিশোরীর অসুস্থ বাবা।

আর আসিফার ধর্ষক ও হত্যাকারীরদের সমর্থনে পথে নামল পুরুষ মহিলারা। ক্ষমতা ও জনসমর্থনকেই চাবিকাঠি করে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এই নৃশংস অপরাধীরা। ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ শবের বিকাশে পরিণত হয়েছে। সমালোচনার বহরে প্রায় কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রী। বিদেশের মাটিতেও আর সহাস্য অভ্যর্থনা মিলছে না। প্রবাসী ভারতীয়রা ‘মোদি হটাও’ বলতে পিছপা নন।

তাই ভারতের মন্ত্রিসভার নয়া প্রস্তাবনা , ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকন্যা ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 5 =