২০০৫ সারা দেশে সিরিজ বোমা ,ভারতের খাগড়াগড় হামলার অন্যতম হোতা তালহা শেখ গ্রেপ্তার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চার বছর আগে বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্তকে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার রাত একটার দিকে নন্দীগ্রাম থানার অমরপুর এলাকা থেকে সাজিদ ওরফে মহম্মদ আবু সইদ ওরফে আবদুল করিম ওরফে তৈয়ব ওরফে তালহা শেখ ওরফে হোসেইন ওরফে ডেঞ্জার শাকিল শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নথিতে জেএমবি ওই নেতার পরিচয় শ্যামল শেখ। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট বাংলাদেশে সিরিজ বোমা হামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ও কলকাতার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি জঙ্গি নেতা সাজিদকে (৩৩) অস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার করে বগুড়া পুলিশ।

মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। রাজশাহী জেলা থেকে মোটরসাইকেলে বগুড়ায় আসার পথে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কলকাতা থেকে পালিয়ে আসার দুই বছরের মাথায় গ্রেপ্তার হল সাজিদ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, বার্মিজ চাকু ও নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আবু সাজিদের বাড়ি পশ্চিমের জেলা কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চরচাঁদপুর গ্রামে। তার হাত ধরে নব্য জেএমবি নেতা সোহেল মাহফুজ-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার বিকেলে শ্যামল শেখকে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী বিচারিক হাকিম আবু রায়হানের এজলাসে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মহম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত অক্টোবরে তার স্ত্রী ও ভারতীয় নাগরিক খাদিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে আবু সইদকে ধরতে গোয়েন্দা দল মাঠে নামে। ২০০২ সালে উত্তরাঞ্চলে জেএমবিতে অভিষেক হয় আবু সইদের। রাজশাহী অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্ব পেয়ে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা গ্রামে মাওবাদী নিধন অপারেশনে অংশ নেয়।

২০০৫ সালে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা মামলার ঘটনায় নওগাঁর আদালতে বোমা হামলায় অংশ নেয় সাজিদ। বোমা হামলা মামলায় ২০০৭ সালে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারতে আত্মগোপন করে সে। ২০০৯ সালে মুর্শিদাবাদে স্থানীয় এক জঙ্গিনেতার মেয়ে খাদিজা বেগমকে বিয়ে করে। ২০১০ সাল থেকে শ্যামল শেখ পরিচয়ে ভারতের নদিয়ায় জেএমবির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে। ২০১২ সালে নদীয়া ছাড়াও বীরভূম ও বর্ধমান জেলায় দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বোমা বিস্ফোরণে অংশ নেয়। ২০১৫ সালে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ফের বাংলাদেশে এসে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় সাজিদ। ২০১৭ সাল থেকে নব্য জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধানের দায়িত্ব পায় সে।

খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বোমার বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় শাকিল গাজি এবং করিম শেখের। এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চলার অভিযোগ ওঠে। সাজিদ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মামলার তিন নম্বর আসামি। খাগড়াগড়ের চার্জশিট পেশ করতে গিয়ে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ দাবি করে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়েই ওই জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। বাংলাদেশে একটি কট্টরপন্থী শরিয়া-ভিত্তিক ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জেএমবি-র লক্ষ্য। বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেই জেএমবি-র জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ঝাড়খণ্ডে প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করেছিল। খাগড়াগড়ে চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে মোট ২১ জনের নাম ছিল, যার মধ্যে অন্তত ৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen + sixteen =