২১শে আগষ্ট গ্রেনেড সরবরাহকারী ও ঘাতক তাজউদ্দিনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত আনার উদ্যোগ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী  মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিনকে ‘ডিপোর্টে’র (দেশান্তরিত) মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল  বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম আসামি মাওলানা তাজউদ্দীনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাজউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব উদ্যোগই নেবে সরকার।’

এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাজউদ্দিন বর্তমানে পাকিস্তানি পাসপোর্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন।তিনি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি তাজউদ্দিন একই ব্যক্তি কি-না, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

তাজউদ্দীন পাকিস্তানের পাসপোর্ট কীভাবে পেলেন সে সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসব উদ্যোগ দ্রুততর করতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী নোমাইন্দিয়া ফেকেটো বাংলাদেশ সফরে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় পলাতক একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দীন মিয়াকে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি-বি) নেতা মাওলানা তাজউদ্দীন তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। তিনি ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার পর পাকিস্তানে যান। পরে ২০০১ সালে দেশে ফেরেন এবং হুজি-বির কার্যক্রমে যুক্ত হন। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কুশীলবদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দীন অন্যতম। তিনি হুজি- নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ইন্টারপোল (প্রিটোরিয়া এনসিবি) শাখা এক চিঠিতে বাংলাদেশকে জানায়, মাওলানা তাজউদ্দীনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আবেদন করলে তারা এই আসামিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসএস (এ) ও এসএস(পি) শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, ‘মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষঙ্গিক দলিলাদি সংযুক্তসহ কূটনৈতিক চ্যানেলে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।’
এরপর তাজউদ্দীনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ই-মেইলে জানানো হয়েছে, মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়া পাসপোর্টে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে ওই দেশে গেছেন।

এ সময় তাকে সঠিক তথ্য যাচাই করে তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব তথ্য দিতে ইন্টারপোল প্রিটোরিয়া হতে অনুরোধ করা হয়।
গ্রেনেড  হামলার আগে তৎকালীন উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা  আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবনে মুফতি হান্নান, হাফেজ আবু তাহের ও তাজউদ্দীনের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। পিন্টু ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি গ্রেফতার হন। আদালতে তিনি এ সম্পর্কে জবানবন্দি দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে পলাতক তাজউদ্দীনকে আটক করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বিশ্বব্যাপী রেড নোটিশ জারি করে। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার ইন্টারপোল (প্রিটোরিয়া এনসিবি) শাখা এক চিঠিতে বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়, তাজউদ্দীন দক্ষিণ আফ্রিকায় নজরদারিতে আছেন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি করতে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চুক্তির খসড়া পাঠায়। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহিঃসমর্পণের আওতায় তাজউদ্দীনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।
সম্প্রতি নোট ভারবাল মারফত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের কাছে ‘দেশান্তরিত’ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি নমুনা কপিও পত্রের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাবে।
পরিপ্রেক্ষিত: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও মরহুম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত আবদুল জলিল ও বর্তমান সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার করেন। এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, আলহাজ মাওলানা মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দীন মিয়াসহ ১৯ আসামি পলাতক। অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জন কারাগারে রয়েছেন। – See more at: http://bangla.samakal.net/2016/05/16/212569#sthash.NHVPtilj.dpuf

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + 1 =