২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাবরসহ বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির আসামির মধ্যে আরো রয়েছেন, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, রেজ্জাকুল হায়দার, রহিম শাহ, জান্দাল, তাজউদ্দিন প্রমুখ।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য কায়কোবাদ প্রমুখ। বাকি ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বুধবার সকাল ১১ টা ৫০ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং রায় প্রদান করেন ।

পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এডিসি বলেন, রায়ের পর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে। তা ছাড়া জননিরাপত্তার বিষয়টি দেখা পুলিশের দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে পুলিশ সতর্ক রয়েছে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

আজ ভোর থেকেই আহতদের মধ্যে অনেকেই জড়ো হন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সমানে। কারো কারো পরিবারের সদস্যরা হাজির হয়েছেন। অনেকেই এসেছেন হুইলচেয়ারে করে, কেউ বা ক্র্যাচে ভর দিয়ে এসেছেন। তাঁদের শরীরে গ্রেনেড হামলার ক্ষতচিহ্ন।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × two =