৩ ঘন্টার ঝটিকা সফরে শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করলেন সৌদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবায়ের

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ধর্মের নামে কতিপয় মানুষের কর্মকাণ্ডে শান্তির ধর্ম ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৩ ঘন্টার ঝটিকা সফরে আলোচনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা তুলে ধরেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাবে বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়াতে থাকবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, ক্ষমা ও ভালবাসার শিক্ষা দেয়। অথচ সন্ত্রাসবাদীরা ইসলামের এ মূল্যবোধগুলোকে ধ্বংস করছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় ঢাকায় নামলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিমানবন্দরে জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতীম’ দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই তার এই সফর।

‘দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের মধ্যে পরামর্শ, সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা করতেই আমি এখানে এসেছি। আমি এখানে এসে আনন্দিত। আমাকে এখানে গ্রহণ করায় সম্মানিত বোধ করছি।’

ঝটিকা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে এলেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল জুবায়ের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় নেমে সরাসরি গণভবনে যান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুবায়েরের বৈঠকে সন্ত্রাস মোকাবেলার বিষয় প্রাধান্য পায়।শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তাকে জানান।
বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়- প্রধানমন্ত্রী একথা বলার পর আবদেল আল জুবায়ের বলেন, সৌদি আরবও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবনে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সহায়তা করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সেরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া একটি নৈশভোজে অংশ নিয়ে রাত সাড়ে ৯টায় ফিরে যান তিনি। সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার পর সৌদি আরবের কোন মন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর।

বৈঠকে সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগ এবং দুই দেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়েও কথা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়মিত করার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিকদের আরও দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র বের করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে সৌদি আরবের আরও বিনিয়োগ এবং উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সফর বিনিময়েও জোর দেন তিনি।

ওআইসি’র বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে জাকার্তায় রোববার জুবায়েরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মাহমুদ আলী।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, মাহমুদ আলী ওই বৈঠকের সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seventeen − nine =