৪৯ দিনে ৪৫ শিশুকে হত্যা- বিপন্ন শৈশব

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

৪৯ দিনে ৪৫ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। শিশুদের এমন বর্বরোচিতভাবে হত্যা র ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক যে কোন সমাজের জন্যে।  প্রতিনিয়ত  প্রতিহিংসার বলি হচ্ছে নিরীহ শিশু-কিশোর। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি ব্যক্তিগত শত্রুতায় আক্রোশের শিকার কোমলমতি শিশু কিশোরদের নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরী মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।শারীরিক নির্যাতন, এসিডে পুড়ে, শ্বাসরোধ করে, মাটিচাপা দিয়ে কখনো বা কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হচ্ছে শিশু কিশোরদের।

বছরের ২ মাস যেতে না যেতেই  ৪৯ দিনে হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৫ শিশু কিাশোরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেবল চলতি মাসের (ফেব্রুয়ারি) ১৭ দিনেই হত্যা করা হয়েছে ১৪ শিশুকে। এর আগের মাসে ৩১ দিনে হত্যা করা হয়েছে ৩১ শিশুকে। প্রতিদিন গড়ে দেশে কোন না কোনভাবে এক বা দুইজন করে শিশু হত্যা হচ্ছে। অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে আইনের দুর্বল প্রযোগ, নৈতিকতা না থাকা এবং শিশু নির্যাতন হত্যা রোধে মনিটরিং না থাকায় একের পর এক শিশু হত্যা বাড়ছে। পাশাপাশি শিশু হত্যায় শাস্তির বিষয়টিও সবাই জানছে না।
গত শুক্রবার হবিগঞ্জে বাহুবলের সুদ্রাটিকি গ্রামে একই পরিবারের ৪ শিশুকে অপহরণ করে ২ দিন পর নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়। অপহরণের ৫ দিন পর গত বুধবার পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। অপহরণের পর থানায় জিডি করলেও পুলিশ দক্ষতা দিয়ে জীবিত অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করতে পারেনি। গ্রাম্য রাজনীতিতে পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অপরাধীরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ ঘটনায় দেশ বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে কাশিমপুর এলাকায় সোলায়মান নামে চার বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এনজিও থেকে ঋণ নেয়াকে কেন্দ্র করে বাবার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় নির্মল রবিদাস নামে এক ব্যক্তি শিশুকে হত্যা করে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের শিমুলবাড়ি উপজেলায় মাদ্রাসার এক শিশুকে অপহরণ করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ১০ বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন মৌলভীবাজারের এক নবজাতকের লাশ পাওয়া যায়। ৫ ফেব্রুয়ারি সাভারের আশুলিয়ায় ইমন নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকূপার কবিরপুর মসজিদপাড়ায় তিন শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজের ভাই ও বোনের তিন সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নিহত শিশুরা আমিন হোসেন (৭), শিবলু হোসেন (৯) ও মাহিম হোসেন (১৩)। আমিন হোসেন যথাক্রমে  প্রথম শ্রেণী, শিবলু তৃতীয় শ্রেণী ও মাহিম সপ্তম শ্রেণীতে  পড়তো। বর্বর নৃশংস ঘাতক  ইকবাল সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় নিজের ভাই বোনের কাছে পাঠানো টাকা চেয়ে ফেরত না পেয়ে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে।

২৯ জানুয়ারি দুপুরে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের বাসা থেকে বের হলে নিখোঁজ হয় আবদুল্লাহ। পরে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে একটি নম্বর থেকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে শিশু আবদুল্লাহকে ফেরত পাওয়ার আশায় দুই দফায় অপহরণকারীদের দুই লাখ টাকা দেন অভিভাবকরা। এরপরও শিশুটিকে জীবিত ফেরত না দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ওই ঘাতকরা। চারদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি শিশু আবদুল্লাহর মায়ের আপন মামা মোতাহারের বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে নির্মম নির্যাতনের পর এসিড নিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ ড্রামে রাখা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই ঘটনার মূল হোতা শিশু আবদুল্লার মায়ের আপন মামা মোতাহার নিহত হয়। ২৭ জানুয়ারি অপরহণ করা হয় ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শাকিল (১১) এবং আবু বকরের ছেলে ইমরান হোসেনকে (১১)। দুই দিন পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের হারিয়া এলাকা থেকে এই দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণের পর শাকিলের মায়ের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ৩০ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদরের মালির পাথর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে নীরব (১১) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নীরব মালিরপাথর মাদ্রাসায় পড়ত। ২৯ জানুয়ারি খেলার সময় সে নিখোঁজ হয়। ২৮ জানুয়ারি রাতে রংপুর নগরের আদর্শপাড়া থেকে রাহিমুল ইসলাম রনক (১১) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। অপহরণের প্রায় দুই মাস পর তার লাশ উদ্ধার হয়। মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেপানি গ্রামের একটি জমি থেকে গর্ত খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ১ ডিসেম্বর বাড়িতে খেলার সময় সে নিখোঁজ হয়। ৩১ জানুয়ারি শেরপুরে নূর আলম নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ পাওয়া যায়।
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হত্যার শিকার ৩১ শিশুর মধ্যে চারজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের পর পাওয়া গেছে ছয়জনের লাশ। স্বজনদের হাতে খুন হয়েছে তিনজন। বেসরকারি একাধিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে এক হাজার ৬৯ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ২৯২ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। ২০১৪ সালে খুন হয়েছে ৩৫০। ২০১৩ সালে ২১৮ জন এবং ২০১২ সালে ২০৯ শিশু খুন হয়েছে। চার বছরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯৭৬ শিশু। গত বছর ধর্ষণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ৫২১ শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯১ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ১৯৯ শিশু; ২০১৩ সালে ১৭০ এবং ২০১২ সালে ৮৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। বিএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ৪০ শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এ বছর মোট অপহরণের শিকার হয় ২৪৩ শিশু। এর মধ্যে ১৬৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৪ সালে অপহূত হয় ১১৮টি শিশু, যার মধ্যে ৫০টিকে মেরে ফেলা হয়। ৬৬টি শিশুকে অপহরণের পর উদ্ধার করা হয়। ২০১৩ সালে ৪২টি শিশু অপহরণের শিকার হয়, যার মধ্যে মেরে ফেলা হয় ১৩ জনকে। এর আগে ২০১২ সালে ৬৭টি শিশু অপহূত হয়েছিল।
এ যাবত ঘটানো হত্যার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহ, যৌতুক, অনৈতিক সম্পর্ক, মুক্তিপণ না পাওয়া, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মাদকাসক্তির কারণেই বেশি শিশু হত্যা হয়েছে। গত বছরের আট মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় ২১০ শিশু খুন হয়, যার মধ্যে ৩১ জন তার মা ও বাবার হাতে প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৪ সালে নিহত সাড়ে তিনশ’ শিশুর মধ্যে ১৫ জন এভাবে পরিবারে খুন হয়। পুলিশের ওয়েবসাইটে দেয়া অপরাধের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সংখ্যার দিক থেকে মাদকের পর দেশে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটে শিশু ও নারী নির্যাতনের। ২০১৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২১ হাজার ২২০টি ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ২৯১টি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা যাদের কাছে আশ্রয় পাবে তাদের দ্বারাই সবচেয়ে বেশি নিগৃহিত হচ্ছে। কাছের মানুষরাই শিশুদের টার্গেট করে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। পরিবারের বড়দের সঙ্গে শত্রুতার ক্রোধ মিটাতে কোমলমতি শিশুদের অপহরণ করা, নির্যাতন করা কখনো কখনো নৃশংসভাবে হত্যা করা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে যা আগে কখনো ছিল না। সমাজের এ বদলে যাওয়াটা ভালো নয়। আগে দেখা যেত একই পাড়ার বা গ্রামের একে অন্যের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও তা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলত না। বরং চরম শত্রুর সন্তানরা বিপদে পড়লে এগিয়ে এসে রক্ষা করার মানসিকতা ছিল। এসব সামাজিক কর্তব্যের কারণে বড়দের সঙ্গে একে অপরের রাগ অভিমান বা শত্রুতাও মিটে যেত।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, নিখোঁজ বা অপহরণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, মামলা হয়েছে। মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টিও পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারপরও ওই শিশুদের জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ অনেক সময় শিশু অপহরণ বা নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত সময়ে তদন্ত হয় না। হবিগঞ্জের বাহুবলের ৪ শিশুকে অপহরণের পরপরই পুলিশকে সন্দেহভাজন আসামিদের নাম বলা হলেও পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। কিন্তু ৫ দিন পর মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে শিশুদের লাশ উদ্ধার হলো। নিখোঁজ হওয়ার ২ দিন পর শিশুদের হত্যা করা হয়। পুলিশ দু’দিন সময় পেলেও শিশুদের জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। ঢাকার কেরানীগঞ্জের মুগারচর থেকে নিখোঁজ হয় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মো. আবদুল্লাহ (১১)। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করে পরিবার। এরপর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরিবারের কাছে আবদুল্লাহকে অপহরণের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকাও পাঠায়। কিন্তু তারপরও আবদুল্লাহকে ফেরত দেয়া হয়নি। পরে বাড়ির পাশে আবদুল্লাহর মায়ের আপন মামা মোতাহারে বাড়ি থেকে ড্রামে এসিডে পোড়ানো আবদুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাকিল ও ইমরানের বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার চরচৌহাট গ্রামে। তারা স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। গত বুধবার বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা নিখোঁজ হয়। শিশুদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু পরিবার মুক্তিপণ দিতে পারেনি। পরে বাড়ির অদূরে ওই দুই শিশুর লাশ পাওয়া যায়। ২৯ জানুয়ারি রংপুর নগরের আদর্শপাড়ার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেপানি গ্রামের একটি জমি থেকে গর্ত খুঁড়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে রাহিমুল ইসলাম রনক নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত ১ ডিসেম্বর দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলার এক ফাঁকে নিখোঁজ হয় সে। ওই দিন রাতেই কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৩ ডিসেম্বর পরিবার একটি অপহরণ মামলা করে। মামলা করলেও পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ করে পরিবারের সদস্যরা। ফলে যথাসময়ে জীবিত সময়ে উদ্ধার হয়নি অপহৃত শিশু রনক। পরে পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। বাবা রাঙ্গা মিয়ার সঙ্গে আর্থিক দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে আপন খালাত ভাই মোবাশ্বেরের পরিকল্পনায় এ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে হাফসা আক্তার রূপা নামের পাঁচ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়। এরপর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা শিশুটির পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ওই ব্যক্তিরা পুলিশকে এ তথ্য না জানাতে বলে। কিন্তু পরিবার পুলিশকে জানায়। পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরপর ওই দিন রাত দুইটার দিকে আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের গিরদা এলাকা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতরা পার পেয়ে যায় অনেক সময় :
রাজশাহীর পবা উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে দুই স্কুলছাত্র জাহিদ ও ইমনকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর ঘটনায় সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও আসামিদের জামিন দেয় আদালত। পুলিশ একজন আসামি ছাড়া বাকিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এর আগে কেরনাীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি বন্দুক যুদ্ধে মারা যায়। তবে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। গাজীপুরে অপহরণের পর শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাইরে। গত বছরের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা,৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে এক ওয়ার্কশপে মোটর সাইকেলে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসার মেশিনের মাধ্যমে পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় ১২ বছরের শিশু রাকিব হাওলাদার হত্যার ঘটনায় পৃথকভাবে ছ্থজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছ’জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হলেও অধিকাংশ শিশু হত্যার ঘটনায় দূর্বল তদন্তের কারণে আসামিদের কঠোর শাস্তি হয় না। এছাড়া আসামিদেরও অনেক সময় ঠিকভাবে গ্রেফতার করতে পারেনা পুলিশ। ফলে মূল অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + fourteen =