২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জামাত বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে ৩টি জঙ্গী সংগঠন জড়িত: আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনা স্বাধীনতার অর্জন ব্যাহত করার অপকৌশলের ধারাবাহিকতা যুক্তিতর্কের সূচনা বক্তব্যে  আদালতেএকথা বললেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি  এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান  । তিনি বলেন, স্পেশালাইজড গ্রেনেড আর্জেস গ্রেনেড হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ২২ জন ,আহত হন কমপক্ষে ৫শতাধিক । অষ্ট্রিয়া এবং পাকিস্তানে  এই গ্রেনেড  তৈরি করা হয়।

ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। সূর্যবার্তা সম্পাদক সুমি খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন ।

এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি আওয়ামী লীগকে ও জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে এসব হামলা ও ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ’৭৫-এ বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।  রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে  বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের  প্রত্যক্ষ মদতে পাকিস্তানী একটি জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশী ২টি  জঙ্গি সংগঠন জড়িত থাকার প্রমাণ  পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি । ষড়যন্ত্রে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু সহ প্রভাবশালী মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতের কাছে, আমাদের কাছে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় রয়েছে পুরো জাতি ।

বকশী বাজার এলাকায় ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। স্পর্শকাতর ও আলোচিত এ মামলায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য পেশ ও আসামীপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে  বঙ্গবন্ধু   ‌এভেনিউতে  ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায়  ২২ থেকে  ২৪ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলায়  আহত হন । এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − three =