৮ মাস পর মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনের প্রতিবাদের প্রতীক কিশোরী আহেদ ও তার মা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইসরায়েলি দুই সেনার গালে চড় মেরে ফিলিস্তিনে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা কিশোরী আহেদ তামিমি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আট মাস পর আজ রোববার কারাগার থেকে একসঙ্গে মুক্তি পান আহেদ ও তার মা।
সেনাদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাস্তার পাশে জড়ো হওয়া হাজারো জনতা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহেদ বলেন সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। সেখানেই কথা হবে।

কারাগারের মুখপাত্র আসাফ লিবরাতি বলেন, তাদের ইসরায়েলি সেনাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৭ বছরের আহেদ ও তার মাকে সকালে ইসরায়েলের শ্যারন কারাগার থেকে গাড়িতে করে পশ্চিম তীরের সীমান্তবর্তী তল্লাশি চৌকিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আহেদের বাড়ি পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে।

তাদের স্বাগত জানাতে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা তল্লাশিচৌকিতে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বহনকারী সেনাবাহিনীর গাড়িটি সেখানে না দাঁড়িয়ে পশ্চিম তীরের দিকে চলে যায়।

 

আহেদের বাবা বাসেম এক হাত দিয়ে মেয়েকে অন্য হাতে স্ত্রীকে ধরে রাখেন। তারা যখন পথে ধরে হাঁটছিলেন তখন চারপাশ থেকে ‘আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই’ স্লোগান ওঠে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছে। এমনকি এই মা-মেয়েকে কোন তল্লাশি চৌকি দিয়ে আনা হবে- তা নিয়েও বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছে।

প্রথমে বলা হয়েছিল আহেদ ও তার মাকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর তুল্করাম শহরের কাছের একটি তল্লাশি চৌকি দিয়ে আনা হবে। কিন্তু তাদের কোন তল্লাশি চৌকি দিয়ে আনা হবে তা তিন তিনবার পরিবর্তন করা হয়।

গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনি মানুষ।কারণ, পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় তারাও। এ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ হয়। সেই প্রতিবাদ থামাতে ইসরায়েলের দমন-পীড়ন-সব মিলিয়ে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত আর দশটা ফিলিস্তিনির মতো মেনে নিতে পারেনি কিশোরী আহেদ তামিমিও। পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে নিজেদের বাড়ির সামনে ইসরায়েলের সেনাদের দেখে নিজেকে আর সংযত করতে পারেনি বলে আহেদ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে দুই শিবিরে দুই রকম আগুন ধরায়। ফিলিস্তিনিদের দেয় সাহস আর ইসরায়েলিদের করে বিভ্রান্ত, অপমানিত, ক্রুদ্ধ ও লজ্জিত। স্বয়ং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই কিশোরীর সাহসের প্রশংসা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমর্থকেরা তার প্রশংসায় ভাসিয়ে দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে মেয়েটি ইসরায়েলি সেনাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলে। চিৎকার করতে থাকে। সেনারা তাকে সরে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি চলতে থাকে দুই পক্ষের মধ্যে। একপর্যায়ে এক ইসরায়েলি সেনার গালে চড় মারে কিশোরী আহেদ।তারই বান্ধবী মোবাইলে দৃশ্যটি ভিডিও করে।  এএফপি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 4 =