তোর্সা, মানসাই, ধানসাই, ধলোরার মতো কিছু নদী রয়েছে, বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নয়াদিল্লিতে এপ্রিল ৯ রাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিস্তা নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা।  তাঁকে তোর্সা নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসিনার সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের বৈঠক সেরে মমতা বলেন, ‘‘আমি তিন-চারটি নদীর নাম বলেছি। তোর্সা, মানসাই, ধানসাই, ধলোরার মতো কিছু নদী রয়েছে।… দুই দেশ স্টাডি করে দেখতে পারে, কোনও সমস্যা আছে কি না। তাহলে কিছুটা শেয়ার (জল) করা যায়।’’

তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে তিনি কেন অনড় তার ব্যাখ্যাও এদিন দিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘তিস্তা নিয়ে আমাদের সমস্যা আছে। তিস্তায় সত্যিই জল নেই। তিস্তার জল চলে গেলে পানীয় জলের সমস্যা হয়ে যাবে। চাষের সমস্যা হবে।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রফাসূত্র মানতে হলে তিস্তা প্রসঙ্গে পাকাপাকি ইতি টানতে হয়। যা ভারত সরকার তো বটেই, বাংলাদেশের কাছে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও দিল্লি বা ঢাকা মমতার বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না। দুই সরকারি সূত্রেই জানা যাচ্ছে, তিস্তার বদলে তোর্সার ফরমুলা মেনে সম্পূর্ণ জলবণ্টন পরিকল্পনার কেঁচে গন্ডুষ করতে ঢাকা, দিল্লি কেউই রাজি নয়। বরং মমতার পালটা চালে নরেন্দ্র মোদি চাপে। হাসিনা হতাশ। তাই আজ রাষ্ট্রপতি ভবনের নৈশভোজে মোদি, হাসিনা, মমতা আবার মিলিত হলেন বটে, আলোচনাও হল নানাবিধ বিষয়ে। কিন্তু বোঝাই গেল শৈত্য। হাসিনা, মমতা, প্রণববাবুর মধ্যে বাংলায় একপ্রস্থ আড্ডা হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন। যদিও মোদির সঙ্গে মমতার শীতল সৌজন্য বিনিময় ছাড়া বিশেষ কিছু দেখা গেল না। তবে হাসিনার সফরের শেষ দিনেই মোটামুটি স্পষ্ট যে, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা আবার চলে গেল স্নায়ুর লড়াইয়ে। কেন্দ্র মমতার ফরমুলা মেনে তিস্তাকে ঠান্ডাঘরে পাঠিয়ে দিতে নারাজ। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালীনই এরকমভাবে একটি বিকল্প প্রস্তাব মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা কূটনীতির পরিপন্থী। কিছুটা হলেও এর ফলে সফরের সাফল্য ড্যামেজ হল।

বস্তুত তিস্তা জল বণ্টন চুক্তির সঙ্গে যুক্ত আছে একঝাঁক সমীকরণ—১) মমতার রাজনৈতিক বার্তা যে রাজ্যকে বঞ্চিত করে কোনও বৃহত্তর স্বার্থেই আপস নয় ২) হাসিনার আগামী বছরের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম ইস্যুই তিস্তা ৩) মোদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনীতিতে চীনের থেকে বাংলাদেশকে দূরে রেখে ঢাকাকে ভারতের পাশে রাখতে তিস্তা উপহার দিতে মরিয়া। কিন্তু সমস্যা হল মমতার ফরমুলাকেও উড়িয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। কারণ রাজ্যে পা রাখতে তৎপর বিজেপির পক্ষে তা রাজনৈতিক ড্যামেজ। সুতরাং এখন নিছক নদী নয়। দুই বাংলার রাজনীতি তথা কূটনীতির এক শক্তিশালী ইস্তাহারের নাম তিস্তা!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × five =